আট গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু
১৫ বছরেও হয়নি পাকা ব্রিজ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের আট গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে কাঠের সেতু। বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে গজারিয়া খালের ওপর গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রশস্ত সেতুটি। সরু এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।
স্থানীয়দের দাবি, আট গ্রামের ৮ হাজারের বেশি মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, টমটম ও ভটভটি এই সেতু ব্যবহার করে। প্রায় ৫০ বছর ধরে ভাঙা-মেরামতের মধ্য দিয়ে কোনোভাবে টিকে আছে সেতুটি। তবে এখনো কাঠের সেতুর স্থলে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী পাকা ব্রিজ।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বটতলী সংলগ্ন গজারিয়া খালের ওপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া, কাঞ্চনা, নিচিন্তা, ঠেকার দোকানসহ হাসনাবাদের কয়েকটি এলাকার মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে বড় বেতুয়া-সন্দ্বীপপাড়া সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন পারাপার হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন ও ধর্না দিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। প্রতি বছর স্থানীয়ভাবে সামান্য অর্থ ব্যয়ে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি মেরামত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
অটোচালক মতিন মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। ১৫ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি, কিন্তু স্থায়ী সেতু পাচ্ছি না। কবে এই সেতু হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক একরাম বলেন, ‘প্রতিবছর সামান্য বাজেটে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটি বেশিদিন টেকে না। ফলে সারা বছরই মানুষের দুর্ভোগ লেগে থাকে। একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে আট গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, ‘সেতুটির বিষয়ে ইউপি সচিব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সেতুটি হবে হবে বলা হলেও এখনো হয়নি। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়।’
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ‘ফটিকছড়ি থেকে যে কয়টি ব্রিজের প্রস্তাবনা রয়েছে, তার মধ্যে এটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।’
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দাঁতমারা ইউনিয়নের প্রশাসক সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘শিগগিরই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।’
এসএ




Comments