রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী শাখা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পথসভা থেকে বর্ধিত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন দলটির নেতারা।
উল্লেখ্য, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় কার্যকর হয়েছে, যা আগের নির্ধারিত দরের তুলনায় লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বেশি।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আলুপট্টি মোড় থেকে মহানগর জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে বাটার মোড়ে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমের প্রধান অতিথি এবং মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দীন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মহানগরীর নায়েবে আমীর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) রাজশাহী মহানগর সভাপতি সারোয়ার জাহান প্রিন্স, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরের সভাপতি আব্দুস সামাদ এবং জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সহ-প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান আশু, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, রাজপাড়া থানা আমীর নূরুল ইসলাম মনি, কাশিয়াডাঙ্গা থানা আমীর ফরিদ উদ্দিনসহ মহানগরী ও স্থানীয় অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
পথসভায় জামায়াত নেতারা বলেন, "জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একক কোনো পণ্যের দাম বাড়ার বিষয় নয়; পরিবহন, কৃষি সেচ, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জাতীয় অর্থনীতির প্রতিটি খাতে জ্বালানি ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। সরকারের এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, যা ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোগা সাধারণ মানুষের জীবনে বিষাদ এনে দেবে।"
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, "সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ালেও সারা দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সংকট রয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নতুন কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধ করছে। সরকারের উচিত জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করা।"
পথসভা থেকে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে নেতারা ঘোষণা দেন যে, জনস্বার্থবিরোধী এ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন না করা হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
ডিআর




Comments