Image description

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ৬নং উত্তর-পূর্ব চেঁচরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা এবং সরকারি স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৬৩ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী। এর আগের দিনও মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি তিনি অভিভাবকদের গালিগালাজ ও অপমান-অপদেস্ত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তাঁরা অনতিবিলম্বে ওই শিক্ষকের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচিতি বোর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন হালদার, সহকারী শিক্ষিকা বিজলী রানী এবং সহকারী শিক্ষিকা মোছা. ইসরাত জাহান।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান না করার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

এদিকে বিদ্যালয়ে সরকারের দেওয়া দুপুরের খাবার বা ‘স্কুল ফিডিং’ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম হলেও খাবার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা শুশান্ত কুমার মিস্ত্রি বলেন, তাঁর বাবা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়েছেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন তাঁকে অপমান-অপদেস্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বর্তমানে নিম্ন পর্যায়ে চলে যাওয়ায় তিনি নিজের ছেলেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে এবং মিথ্যা অভিযোগ আনছে। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন হালদার স্কুল ফিডিংয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব বেশি এবং রাস্তার অবস্থাও ভালো নয়। এ কারণে খাবার রেখে পরের দিন সমন্বয় করা হয়। তবে সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিংস ফয়সাল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত বক্তব্য পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে একটি পক্ষ-বিপক্ষের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ডিআর