তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগ নিয়ে তারেক-এরদোয়ান বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রধানমন্ত্রীর সারাদিনের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘মূল্যবান ভাই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন যে, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।” বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ এবং বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সরকারপ্রধানদের সঙ্গেও তাঁর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, হাইতির অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
রোহিঙ্গা সংকট ও মেটার সঙ্গে বৈঠক: সফরের প্রথম দিনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বিষয়ে আরও জোরালো সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘মেটা’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে তাদের একটি আনুষ্ঠানিক কার্যালয় বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি রোধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।




Comments