ফুলবাড়ীতে শত বছরের ঐতিহ্য আঁকড়ে ঝিনুকের চুন তৈরি
লাভ কম, কাঁচামাল ও জ্বালানির সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর শত বছরের পুরোনো ঝিনুকের চুন তৈরির ঐতিহ্য। উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া (যুগিপাড়া) গ্রামে বর্তমানে আটটি পরিবার কষ্ট করে এ পেশা ধরে রেখেছে। এ কাজে যুক্ত রয়েছেন প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা ঝিনুক প্রথমে রোদে শুকানো হয়। পরে মাটির তৈরি চুল্লিতে উচ্চ তাপে পুড়িয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় চুন। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চুন তৈরি করেন। স্থানীয় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পান ব্যবহারের জন্য এ চুন বিক্রি করা হয়।
কারিগর বিমল চন্দ্র দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রী গীতা রানী দেবনাথ বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা বলেই কষ্ট হলেও ধরে রেখেছি। ঝিনুক সংগ্রহ ও জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন আগের মতো লাভ হয় না।’
কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঝিনুক পাওয়া কঠিন হয়েছে। লাভ কমে যাওয়ায় এলাকার অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে।
চুন কারিগররা সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান ও চুন তৈরির আধুনিক মেশিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সরকারি সহায়তা পেলে শত বছরের এ ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম বলেন, চুন কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাসান বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে চুন তৈরির মূল উপাদান ঝিনুকের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের পরামর্শ নেওয়া হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে থাকে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঋণপ্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে অল্পদিনের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে চুনিয়াপাড়ার শত বছরের এই ঐতিহ্য।##
এসএ




Comments