বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিলের হতাশাজনক প্রত্যাবর্তন
শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে
বিশ্বকাপের ধাক্কা সামলে ২০৩০ বিশ্বকাপের নতুন পথচলা শুরু করলেও প্রত্যাশিত জয় পেল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা; উল্টো ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে কোনোমতে হার এড়িয়েছে সেলেসাওরা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিলে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে সমতায় ম্যাচ শেষ করেছে ব্রাজিল। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে রায়ানের চোখধাঁধানো এক হেডে সমতায় ফেরে সফরকারীরা।
শুধুমাত্র সমতার ফলই নয়, পুরো ৯০ মিনিটের ধারাহীন পারফরম্যান্স ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের চরম হতাশ করেছে। তরুণ তারকা এস্তেভাও বাদে দলের আর কোনো ফুটবলারই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতার চরম ঘাটতির কারণে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে মারাত্মক কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি আনচেলত্তির দল।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও দলের প্রধান তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল অনভিপ্রেত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনদ্রিক, দগলাস লুইস ও রাফিনিয়া পুরো ম্যাচজুড়ে বেশ কিছু মারাত্মক ভুল করেছেন। একই সাথে গোলপোস্টের নিচেও গোলরক্ষক হুগো সুজার ব্যর্থতা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে (দ্বিতীয়ার্ধের ২২ মিনিট) অস্ট্রেলিয়ার তরুণ সেনসেশন ইরানকুন্ডার নেওয়ার চমৎকার এক ফ্রি-কিক ঠিকমতো প্রতিহত করতে পারেননি সুজা, যা সরাসরি জালে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণভাগ চাঙ্গা করতে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। সামুয়েল লিনো, রায়ান ও মাউরো জুনিয়র মাঠে প্রবেশ করার পর ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা গতি ফিরে আসে। খেলার শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত আক্রমণে রায়ান দুর্দান্ত এক হেডে লক্ষ্যভেদ করলে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচে ব্রাজিল।
যদিও এই ড্র ব্রাজিল শিবিরকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবে ম্যাচজুড়ে পুরো দলের বাজে পারফরম্যান্স মোটেও আড়াল করতে পারেনি। আগামী মঙ্গলবার ব্রিসবেনে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে পুনরায় মুখোমুখি হবে এই দুই দল। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা সামলে দ্বিতীয় ম্যাচে আনচেলত্তি একাদশে ও কৌশলে কী ধরনের পরিবর্তন আনেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ডিআর




Comments