Image description

সহায়ক কর্মচারীর সংকট রয়েছে, তবুও গত আট মাসে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশ। বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও গতিশীল করতে তদন্তাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে হাজির এবং আলামত ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দ্রুত উপস্থাপনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের অর্ধবার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাঃ ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আশরাফুন্নাহার রীটা।

সম্মেলনে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, মহানগর আদালতে সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। এর পরও গত আট মাসে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশ। বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউল্লাহ।

সাক্ষী-আলামত ও প্রতিবেদন দ্রুত উপস্থাপনের তাগিদ

সম্মেলনে এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতে উপস্থাপিত আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিধি অনুযায়ী ধ্বংস, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন এবং জখমি প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিলের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া আদালত চত্বরের নিরাপত্তা, আদালত চলাকালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, আদালত ভবনের বিভিন্ন সমস্যা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জোর

সম্মেলনে বিচার বিভাগের পাশাপাশি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), এসআরবি-৫, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পিবিআই, সিআইডি, গণপূর্ত, নেসকো, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিজিবি, বিএসটিআই ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মহানগর দায়রা জজের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

যারা উপস্থিত ছিলেন

সম্মেলনে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদুল হক, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ও মহানগর মাদকদ্রব্য ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ রেজাউল করিম, যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মোঃ জাহিদ হাসান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল তারেক, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ রহমান, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউল্লাহ ও মোঃ আশিকুর রহমান এবং সিভিল জজ মোঃ মামুন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক হোসেন, ডিসি (প্রসিকিউশন) মোঃ আবুল কালাম সাহিদ, ডিসি (ডিবি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সিআইডি ও পিবিআইয়ের প্রতিনিধিরা, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক এবং আরএমপির ১২ থানার অফিসার ইনচার্জরা।

এ ছাড়া এসআরবি-৫-এর লিগ্যাল অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন, গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম রাব্বী, বিজিবির সহকারী পরিচালক মোঃ মুয়াজ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর আল মামুন তুহিন, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আজিজুল হাকিম, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন এবং নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আদনান সাকিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএ