কিশোরগঞ্জে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে 'সেভেন' জাতের ফসল
আগাম আলু চাষে হিড়িক
ভাগ্য বদলাতে ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে শীতকালীন আগাম আলু রোপণ এবং জমি প্রস্তুত করতে এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের চাষিরা। উঁচু জমিতে আমন ধান কাটার পরপরই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে স্থানীয় জনপ্রিয় 'সেভেন' জাতের আলুর বীজ রোপণ। বিঘা প্রতি নামমাত্র খরচে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়ায় আগাম আলু চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল আগাম আলুই চাষ করা হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। তবে মাঠে চাষিদের আগ্রহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নভেম্বরের শুরুর দিকে সাধারণ আলু চাষের উপযুক্ত সময় হলেও অধিক লাভের আশায় সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকেই কিশোরগঞ্জে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়। বিশেষ করে স্থানীয় ‘সেভেন’ জাতের আলু রোপণের মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারে তোলা যায়। গত বছর প্রতি কেজি নতুন আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করেছিলেন অনেক চাষি।
উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের চাষি খোকন মিয়া বলেন, "গত বছর আগাম আলু বিক্রি করে আমরা বেশ ভালো লাভ পেয়েছি। নিজের কাছে রাখা বীজ দিয়ে এবার চাষ করায় উৎপাদন খরচ আরও কম হবে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারী কোনো বৃষ্টিপাত না হলে বড় ধরনের লাভ পাব বলে আশা করছি।"
১২ বিঘা জমিতে আলু রোপণরত অপর চাষি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় আলু বিক্রি করে অনেক কৃষক পাকা বাড়ি করেছেন, জমি ও গাড়ি কিনেছেন।
আগাম আলু চাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষি শ্রমিকদের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি। রফিকুল ইসলাম ও টিটুল মিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত দুই মাস কাজ না থাকায় চরম অভাব-অনটনে দিন কেটেছে। তবে আলুর মৌসুম শুরু হওয়ায় তাঁদের নিয়মিত কাজের সংস্থান হয়েছে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা ভালো আছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, “দেশের প্রথম আলু বপন ও উত্তোলন হয় এই এলাকায়। এখানকার আলু বাজারে প্রথম আসায় চাষিরা বেশ লাভবান হন। আগাম ধানে ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরা যেমন খুশি, ওই জমিতে আবার সেভেন জাতের আগাম আলুতে লাভবানের আশায় বপন শুরু করেছেন। এই জাতের আলু কিশোরগঞ্জের কৃষকদের জন্য শুধু আশীর্বাদ নয়, ভাগ্যবদলের ফসল। এ বছর চাষিরা সেভেন জাতের পাশাপাশি কারেজ লাল আলু বপনও করছেন। এর চাহিদা থাকায় সেভেন জাতের মতো লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা।”
ডিআর




Comments