Image description

দিগন্তজুড়ে সবুজ ধানখেত। খেতের বুক চিরে চলে গেছে সরু মেঠোপথ। কোথাও সারি সারি গাছ, কোথাও ঘন সবুজের আড়ালে গ্রামীণ বসতি। হালকা বাতাসে দুলছে ধানের পাতা। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে বিছিয়ে আছে সবুজের বিশাল এক চাদর।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখন চোখে পড়ছে এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বেড়ে উঠছে ধানের চারা। চারপাশের সবুজে বদলে গেছে গ্রামের চেনা দৃশ্যপট। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য যেমন পথচারীদের চোখ জুড়াচ্ছে, তেমনি কৃষকের মনেও জাগাচ্ছে ভালো ফলনের প্রত্যাশা।

মাঠের এই সবুজের পেছনে রয়েছে কৃষকের দীর্ঘ পরিশ্রম। জমি প্রস্তুত করা, চারা রোপণ, সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে নিয়মিত পরিচর্যা—একটি ফসল ঘরে তুলতে কৃষককে পেরোতে হয় নানা ধাপ। তাই ধানখেতের প্রতিটি সবুজ চারা কৃষকের কাছে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও জীবিকারও প্রতিচ্ছবি।

মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমুলঘর গ্রামের বাসিন্দা ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের মাধবপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক জালাল উদ্দিন লস্কর বলেন, “মাঠের দিকে তাকালেই এখন চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশে এত সবুজ—শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়।”

মাধবপুরের গ্রামীণ জনপদের এই দৃশ্যে প্রকৃতি ও মানুষের জীবন যেন পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে। ধানখেতের পাশ দিয়ে কৃষকের চলাচল, মেঠোপথ ধরে মানুষের যাতায়াত, আর দূরে গাছপালায় ঘেরা বাড়িঘর—সব মিলিয়ে ফুটে উঠেছে চিরচেনা গ্রামবাংলার এক নৈসর্গিক ছবি।

কৃষক প্রদীপ ভৌমিক বলেন, “এখন ধানখেতের অবস্থা ভালো। আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

তবে সবুজের এই রূপ একসময় বদলে যাবে। ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবুজ মাঠ ধীরে ধীরে ধারণ করবে সোনালি রং। কৃষকের ঘরে উঠবে নতুন ধান। তার আগে মাধবপুরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেন প্রকৃতির এক বিশাল সবুজ ক্যানভাস হয়ে আছে।

প্রকৃতির এমন নির্মল পরিবেশ শুধু চোখকে প্রশান্তি দেয় না, মনে করিয়ে দেয় মানুষের সঙ্গে মাটির গভীর সম্পর্কের কথাও। মাধবপুরের এই সবুজ মাঠ তাই একই সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কৃষকের শ্রম, স্বপ্ন ও জীবিকার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

এসএ