Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘চেতনা স্কুল মোড়াকরি’। স্থানীয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি কক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই স্কুলে প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কক্ষে পরম মমতায় শিশুদের পড়াচ্ছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষিকা ছনিয়া আক্তার। এখানে শিশুদের বয়স ও দক্ষতা অনুযায়ী ছোট ও বড়—দুইটি গ্রুপে ভাগ করে পাঠদান করানো হচ্ছে।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ‘চেতনা স্কুল’-এ ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে; যার মধ্যে ১৫ জন ছাত্র এবং ২৫ জন ছাত্রী। এদের একটি অংশ পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত এবং বাকিরা স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারের সন্তান।

​সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে ‘পথশিশু নিকেতন ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও সর্বাত্মক সহায়তায় এটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

​এখানে শিক্ষার্থীদের কেবল পড়ালেখাই করানো হয় না; নিয়মিত বিনামূল্যে দেওয়া হয় বই, খাতা, কলমসহ যাবতীয় শিক্ষাসামগ্রী। এছাড়া প্রতি বছরের শুরুতে দেওয়া হয় নতুন পোশাক এবং সাধ্য অনুযায়ী টিফিন ও পুষ্টিকর খাবার। তবে পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থানের অভাবে নিয়মিত খাবার বিতরণ সম্ভব হয় না বলে জানান আয়োজকরা।

​স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষিকা ছনিয়া আক্তার বলেন, “ছোট ও বড় দুটি গ্রুপে ভাগ করে আমরা পাঠদান করাচ্ছি। শুধু আমি নই, আমাদের ফাউন্ডেশনের সভাপতিসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরাও নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন।”

​নানা আর্থিক টানাপোড়েন ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একঝাঁক তরুণের নিরলস স্বেচ্ছাসেবী শ্রমে এগিয়ে চলছে স্কুলটির কার্যক্রম। অবহেলিত এই শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

​এ বিষয়ে 'পথশিশু নিকেতন ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি শাহ নাজিমুল হক বলেন, “এসব শিশু যেন প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা শিশুদের পড়ালেখা চালিয়ে নিচ্ছি। বিত্তবান ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তবে আমরা আরও অনেক অবহেলিত শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে পারব।”

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ‘চেতনা স্কুল’-এর মতো মহতী উদ্যোগগুলো আরও প্রসারিত হবে এবং এলাকা থেকে শিশু ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা সহজ হবে।

এসএ