Image description

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোয় কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমার কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে, আবার কোথাও চলছে রং, সাজসজ্জা ও অলংকরণের কাজ। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে এখনো ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমার চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কাঠামোর উচ্চতা, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। চাহিদা বাড়ায় এবার প্রতিমার দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, জুড়ী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দিবাকর দাস জানান, এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৭৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জায়ফরনগর ইউনিয়নে ১২টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত, ফুলতলা ইউনিয়নে ১১টি সার্বজনীন, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে ১০টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত, সাগরনাল ইউনিয়নে ৯টি সার্বজনীন ও দুটি ব্যক্তিগত, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে ছয়টি সার্বজনীন এবং পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নে ২৩টি সার্বজনীন ও দুটি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপ রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় ১০টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপ বেড়েছে। ভবানীগঞ্জ বাজারে দুটি এবং কামিনীগঞ্জ বাজারে একটি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব এলাকায় পূজার সময় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে, এবারের দুর্গোৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় দিক থেকেও রয়েছে বিশেষত্ব। প্রচলিত পঞ্জিকামতে, ২০২৬ সালে দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং বিজয়া দশমীতে তাঁর গমন হবে নৌকায়। পঞ্জিকাভেদে দেবীর আগমনের বাহন নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও নৌকায় গমনের বিষয়টি উভয় পঞ্জিকাতেই উল্লেখ রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে কেন্দ্র করে বছরের সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতীকী ব্যাখ্যা রয়েছে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই ধর্মীয় উৎসব। এর আগে ১০ অক্টোবর পালিত হবে মহালয়া।

পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে জুড়ীর গ্রাম-গঞ্জ, বাজার ও শহরাঞ্চলে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই অপেক্ষায় রয়েছেন উৎসবের আনন্দে অংশ নেওয়ার।

কারিগরদের নিপুণ হাতে খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমায়। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তাঁরা। প্রস্তুতির শেষ ধাপ পেরিয়ে ৭৭টি পূজামণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো জুড়ী উপজেলা।

এসএ