Image description

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে দিনমজুর হাসান আলীর বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, চালসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় চার সদস্যের পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানোর শঙ্কায় পড়েছে।

সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী রেলপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

হাসান আলী মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। নিজের কোনো জমি নেই তার। রেললাইনের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে হঠাৎ ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে হাসান চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও ততক্ষণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুড়ে যায় ঘরের সবকিছু।

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরটির কোনো অস্তিত্ব নেই। পড়ে আছে শুধু পোড়া খুঁটি ও ছাই। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি রান্না করা ভাত ও ঘরে থাকা চালও আগুনে পুড়ে গেছে।

হাসান আলী বলেন, “আমি দিনমজুর। একদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। রান্না করার চালটুকুও নেই। এখন নতুন করে ঘর বানানোর সামর্থ্যও আমার নেই। সবার কাছে সাহায্য চাই।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারোয়ার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।”

স্থানীয়রা জানান, আগুনে শুধু একটি বসতঘরই পুড়ে যায়নি, এর সঙ্গে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে। অসহায় হাসান আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এসএ