খুলনার পাইকগাছায় এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। আবার কোথাও মজুত থাকা সিলিন্ডার প্রকাশ্যে বিক্রি না করে বাড়তি দামে গোপনে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুন্ধরা, ওমেরা, যমুনা, বিএম, টোটালসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো বিক্রেতা ক্রেতাদের ‘গ্যাস নেই’, ‘সিলিন্ডার নেই’ কিংবা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, কিছু দোকানে সিলিন্ডার থাকার পরও তা প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে না। পরিচিত ক্রেতা কিংবা বাড়তি দাম দিতে রাজি হলে গোপনে সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সে হিসাবে কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬৩ টাকা, আবার কোথাও ১৬৩ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এতে স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাজারে সত্যিই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, নাকি মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে?
একাধিক ভোক্তা জানান, রান্নার প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি কিনতে তাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামে মিলছে না। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ সংকট, মজুত থাকা সত্ত্বেও সিলিন্ডার বিক্রি না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় এলপিজি সরবরাহকারী ও ডিলারদের কাছ থেকেও সংকটের কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রকৃতপক্ষে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, নাকি ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও ভোক্তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভোক্তাদের দাবি, সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি, সিলিন্ডার মজুত করে রাখা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি এলপিজি নিয়ে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
এসএ




Comments