Image description

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চেতনানাশক ওষুধের বিষক্রিয়ায় মো. হাফিজুর রহমান শিকারী (৭৭) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি উপজেলার বেতাগা এলাকায় ঘটেছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম রিনা (৬৮) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিহত হাফিজুর রহমান বেতাগা এলাকার মৃত ইজার উদ্দিন শিকারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা কৌশলে ঘরের ভেতরে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে। পরে তারা ঘর থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়িতে হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম রিনা বসবাস করতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে নুরুল ইসলাম রিপন চাকরির সুবাদে ঢাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ঘরের ভেতরের মালামাল ও জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ঘরের একটি জানালাও খোলা পাওয়া যায়। তবে দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই ঘরের ভেতরে লুকিয়ে ছিল কি না, সে বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ওষুধের বিষক্রিয়ায় হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এসএ