Image description

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অনাবৃষ্টি, তীব্র খরা ও পোকামাকড়ের আক্রমণে রোপা আমন ধানের ক্ষেত বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। কোথাও ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে গাছ। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাব ও পর্যাপ্ত সেচের সংকটে ফসলের এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরম ও দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। কোথাও কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়ায় সবুজ ধানক্ষেত ক্রমেই হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে উঠছে।

কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে রসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সময়মতো পর্যাপ্ত সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর সঙ্গে বিভিন্ন পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এবার আমন ধানের ফলন কমে যেতে পারে। এতে সারা বছরের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা এবং কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. শায়লা শারমিন ‘প্রাইম টিভি’কে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে। অতিরিক্ত খরা, তাপপ্রবাহ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণের কারণে ধানের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের জমিতে পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জমিতে আর্দ্রতার ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, খরার প্রভাব কমাতে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করা, রোগবালাই ও পোকামাকড় শনাক্ত করে অনুমোদিত বালাইনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখা ও সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।

উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, সময়মতো সেচ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মান্দার আমন চাষিরা সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে অনেকটা রক্ষা পাবেন।

এসএ