রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জিম্মি এবং প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় এক সাঁড়াসি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আনোয়ার (৩০), মো. নাজমুল (২৫) ও মো. জিদান মিয়া (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আনুষ্ঠানিক কার্যাদেশের ভিত্তিতে গুলশান সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে গুলশান আবাসিক এলাকায় শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা করে আসছে। তবে সম্প্রতি ‘মাহাবুব ও রবিন গ্রুপ’ পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী সোসাইটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে বাধা ও হুমকি দিতে শুরু করে। পাশাপাশি তারা ‘রুবি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন ও ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে লিফলেট বিতরণ করে বাসাবাড়ি থেকে অবৈধভাবে বর্জ্য অপসারণের টাকা দাবি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ অক্টোবর বিকেলে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি জোরপূর্বক গুলশান সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা বর্জ্য অপসারণের সকল কাজ তাদের সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। কাজ হস্তান্তর না করলে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অন্যথায় সোসাইটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় ধরনের ক্ষতিসাধন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
উক্ত ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্তের পর ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সরাসরি ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে ১০ অক্টোবর গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে (মামলা নম্বর: ১৪)। জিম্মি ও চাঁদাবাজির এই ভয়াবহ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী এবং চক্রের অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিআর




Comments