ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালাতে সৌদি আরবের অনুমতি পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় রিয়াদকে রাজি করানোর এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'হারেৎজ'-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইয়েমেনে এক দশক ধরে চলমান সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অনুমোদন পেতে সৌদি আরবের সঙ্গে গোপনে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের সঙ্গে 'একজোট হয়ে' সামরিক সমঝোতা তৈরি করা এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যা ভবিষ্যতে দু'দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক 'সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ' (নরমালাইজেশন) চুক্তির পথ সুগম করবে।
তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরায়েলের সরাসরি অংশ নেওয়া বা হস্তক্ষেপের অনুমতি দিতে একেবারেই অনাগ্রহী। তাঁর মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি যুক্ত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনমতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় ইয়েমেনে ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক পরিকল্পনার পথ আপাতত অবরুদ্ধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। অন্যদিকে, রিয়াদ তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে; দেশটি বারবার স্পষ্ট করেছে যে—একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করা সম্ভব। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহু নতুন করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোর বিরোধিতা করায় এই কূটনৈতিক পথ এখন অত্যন্ত জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
ডিআর




Comments