শরতের সাদা হাসিতে মুখরিত কাশফুলের মায়াবী রাজ্য কুড়িগ্রামের জগমণির চর
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর পড়ন্ত বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পাটেশ্বরী বাজার থেকে পশ্চিমে ধরলা নদীর পাড়ে জগমণিতে জেগে ওঠা চরের কাশফুল যেন সাদার মায়াবী চাদর বিছিয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো নিপুণ শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা জীবন্ত ছবি। বাতাসে দোল খাওয়া পালকের মতো নরম ধবধবে সাদা কাশফুল দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত প্রকৃতিপ্রেমী।
সাদা মেঘ আর ধবধবে সাদা ফুল যেন একাকার হয়ে গেছে চারদিক। শুধু কাশবনই নয়, মাত্র ২০ টাকা নৌকা ভাড়ায় পারাপারের সময় দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারেন জগমণির চরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
সরেজমিনে নদীর তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধু-ধু বালুচরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র কাশবন। বিকেলের হালকা বাতাসে দোল খাওয়া ফুলের দৃশ্য যেন এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও পরিবারসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে আসছেন ছবি তুলতে ও যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে।
ঘুরতে আসা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আশা মনি বলেন, "শহরের কোলাহল ছেড়ে চরের এই বিস্তীর্ণ কাশবনে এলে মন ভালো হয়ে যায়। কাশবনে এসে খুবই ভালো লাগছে।
ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী রিমন রেজা বলেন, "এখানে না আসলে বোঝা যাবে না কতটা সুন্দর। চারদিকে শুধু সাদা কাশফুল, বিকেলে নৌকায় করে আসার সময়টা অসাধারণ লেগেছে। মনটা একেবারে জুড়িয়ে গেল।
এদিকে চরাঞ্চলের মানুষ এই কাশবন রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্থানীয়রা জানান, কোনো রকম পুঁজি ও শ্রম ছাড়াই প্রতি বিঘা জমির কাশবন বিক্রি করে অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে যদি যাতায়াত ব্যবস্থার কিছুটা উন্নয়ন করা যায়, তবে ভোগডাঙ্গার এই জগমণির চর শরতের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডিআর




Comments