Image description

ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ পুরুষের প্রজননক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। এসব ওষুধ ব্যবহারে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং শুক্রাণুর গুণগত মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (জিএলপি-১) শ্রেণির ওষুধের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও বাড়তি ওজন কমানোর জন্য এই ওষুধ ব্যবহার হলেও ডিমেনশিয়া ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

স্থূলতা ও প্রজননক্ষমতার সম্পর্ক
পূর্বের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সঙ্গে পুরুষের প্রজননতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে স্থূলতা শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ওজন কমানোর পাশাপাশি পুরুষের হরমোন ও প্রজনন ক্ষমতার ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা জানতে যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা একটি পর্যালোচনা পরিচালনা করেন।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
ওয়ারউইক মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ নিয়ে পূর্বে পরিচালিত ৫টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন:

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি: কম টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় ভোগা ৩০ জন পুরুষের ওপর চালানো একটি ১৬ দিনের পরীক্ষায় দেখা যায়, চিরাচরিত 'টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি' (টিআরটি) এবং জিএলপি-১ ওষুধ—উভয় চিকিৎসাতেই রোগীদের হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রাণুর আকৃতি ও গুণগত মানে উন্নতি: টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হাইপোগোনাডিজমে (শরীরে পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন তৈরি না হওয়া) আক্রান্ত ২৫ জন পুরুষের ওপর ২৪ সপ্তাহের একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, টিআরটি গ্রহণকারীদের হরমোন বেশি বাড়লেও জিএলপি-১ গ্রহণকারী দলের শুক্রাণুর গুণগত মান দ্বিগুণেরও বেশি উন্নত হয়েছে। পরীক্ষার শুরুতে স্বাভাবিক আকৃতির শুক্রাণুর অনুপাত ছিল মাত্র ২ শতাংশ, যা ২৪ সপ্তাহ শেষে বেড়ে ৪ শতাংশে উন্নীত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত ও সতর্কতা
গবেষকদের মতে, স্থূলতা ও টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে ভোগা পুরুষদের ক্ষেত্রে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ প্রজনন হরমোন এবং বীর্যের বিভিন্ন ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এ পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত এবং ফলাফলে কিছু তারতম্য রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কেবল প্রজননক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর এসব ওষুধের সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ধারণ করতে আরও বড় পরিসরে বিস্তারিত ও সুপরিকল্পিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন বলে স্বাধীন গবেষকেরা মন্তব্য করেছেন। 

ডিআর