Image description

শীত মৌসুমের আগমনী বার্তার সঙ্গে রাজশাহীর চারঘাটের মাঠে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া আর বাজারে ন্যায্যমূল্য এই দুই প্রত্যাশা ঘিরেই নতুন মৌসুমে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লাভ হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে কিছুটা শঙ্কা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সরদহ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি চলছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা। জমি তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজ রোপণ করছেন তাঁরা। ভালো ফলনের আশায় সকাল থেকে মাঠে শ্রম দিচ্ছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, পেঁয়াজ চাষে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে খরচ করতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম হলে ভালো ফলনের আশা রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। তাই ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তাঁদের।

সরদহ ইউনিয়নের কৃষক খোকন বলেন, পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলনের আশা করছি। তবে বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়েছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।

একই এলাকার কৃষক আশরাফুল বলেন, পেঁয়াজ চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম ও খরচ করতে হয়। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে ভালো দাম পেলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চারঘাটে ৭০০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমির উর্বরতা ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, পেঁয়াজের ভালো ফলন পেতে জমির অবস্থা ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকদের পরিমিত সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডিআর