Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ রাজশাহীতে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবি তাঁর সামনে তুলে ধরতে চান স্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এ সফরে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন বলে প্রত্যাশা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও সফরটিকে দেখছেন রাজশাহীর মানুষ।

উন্নয়নের পাঁচ দাবি

রাজশাহীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান স্থানীয় নেতারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপন করা হতে পারে। দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানি, উচ্চশিক্ষা, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তারেক রহমানের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সোমবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁরা জনসভাস্থল ও সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও।

সফর ঘিরে রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক উন্নয়ন দাবিগুলো গুরুত্ব পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসএ