প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্যের অভিযোগে রাজশাহীতে বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে তাঁদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন আয়নাল হক ও তাঁর ছেলে মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২)। আবু বকর রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। নগরের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল ইশতিয়াক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আয়নাল হক ও তাঁর ছেলে আবু বকর সিদ্দিককে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে আসেন। হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি কোস্টার বাসে করে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যান। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রুয়েটের বাস ব্যবহারের কারণ জানতে চাওয়া হয়।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এর নিন্দা জানিয়ে মন্তব্যকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে অভিযান চালিয়ে আবু বকরকে আটক করা হয়।
আবু বকরের মা আসমাউল হুসনার দাবি, আগের দিন সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী আয়নাল হককে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর মায়ের বাসা থেকে ছেলেকেও আটক করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আয়নাল হক আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ভোটার হলেও দলটির কোনো পদে ছিলেন না। তাঁর ছেলে আবু বকর সিদ্দিকও কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে ছিলেন না। আবু বকরের বন্ধু ও এলাকাবাসীর দাবি, তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন এবং ভ্যানে করে বিভিন্ন হাটে কাঁচামাল বিক্রি করতেন।
আবু বকরের বন্ধু মনিরুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা একসঙ্গে খেলাধুলা ও মেলামেশা করেন। আবু বকর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তিনি জানেন না। তাঁর ধারণা, ফেসবুকের মন্তব্যটি ভুলবশত বা না বুঝে করা হয়ে থাকতে পারে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মন্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।
এসএ




Comments