Image description

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১-দলীয় জোট। একই সঙ্গে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কমিটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোট দিতে জনগণ প্রস্তুত। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাঁদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো আবারও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এমন কিছু ঘটলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে মাগুরার নির্বাচন একটি কালো অধ্যায়। ঠাকুরগাঁওয়ে এর পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জোটের ঐক্য প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এই ঐক্য অটুট রেখে তাঁরা এগিয়ে যাবেন।

৩১ অক্টোবর লংমার্চ

আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে লংমার্চ শুরু হবে। ঢাকা থেকে যাত্রা করে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

লংমার্চের পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানগুলো হলো—মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর, খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় এবং চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। কর্মসূচির সমাপনী সভা হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।

তিনি বলেন, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব। এর মাধ্যমে সরকারকে জনগণের মনোভাব বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিতে চান তাঁরা।

কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। কেউ যেন উসকানি দিয়ে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কর্মসূচি ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজীসহ ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এনএ