পর্যটক শূন্য মেঘের রাজ্য সাজেক: সুনসান নীরবতা
বিপাকে ব্যবসায়ীরা
পাহাড়, মেঘ আর সবুজের মিতালির কেন্দ্রবিন্দু রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি এখন সম্পূর্ণ পর্যটক শূন্য। দীঘিনালা-সাজেক সড়কে দফায় দফায় ছড়ানো উত্তেজনা, সংঘাত ও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকত পাহাড়ের এই উপত্যকা, সেখানে এখন বিরাজ করছে এক সুনসান নীরবতা।
পাহাড়ের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ পাহারায় এবং কঠোর নিরাপত্তায় ১০১টি গাড়ির বহরে করে আটকে পড়া সমস্ত পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়। পর্যটকদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে, তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সবাই নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ সদস্য আহত হয়। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক অবশিষ্ট নেই।
হঠাৎ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় সাজেকের শত শত রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব ধরনের আগাম বুকিং বাতিল করতে হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, জিপ (চাঁদের গাড়ি) চালক এবং পাহাড়ি পণ্যের বিক্রেতারা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দফায় দফায় সড়ক অবরোধ ও পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতের কারণে পর্যটনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু ব্যবসা নয়, সাজেক সড়ক বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন' সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আবার নতুন করে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদও রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মেঘের রাজ্য সাজেক কবে নাগাদ আবার ভ্রমণপিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান,বর্তমানে সাজেকের পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে। সাজেকে পর্যটক শূন্য থাকায় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত জড়িত ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছে। এটি পর্যটনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরো জানান, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মেঘের রাজ্য সাজেক কবে নাগাদ আবার ভ্রমণপিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এসএ




Comments