Image description

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jamia Millia Islamia) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিলুপ্ত থাকা ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু উপড়ে ফেলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার ফলে সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের সাথে নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, ওই তাঁবুর ভেতরেই গত ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (JMISU) পুনর্বহালের দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন চালিয়ে আসছিলেন।

কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA) অভিযোগ করে জানায়, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই প্রশাসন শান্তিপ্রিয় ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং জোরপূর্বক তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্টো কংগ্রেসের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে পরিবেশ ঘোলাটে করার অভিযোগ তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মাহতাব আলম রিজভি দাবি করেন, “কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ দেয়াল টপকে অননুমোদিতভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উত্তপ্ত রূপ নেয়।” বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার দায়ে এই দুই আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ব্যাপক ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ জামিয়ার ছাত্র সংসদ স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এর পর থেকেই দুই দশক ধরে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার রয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনামূলক কমিটি গঠন করলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচনের লিখিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন ও রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

ডিআর