Image description

জমিতে মাটি কাটার সময় কোদালে ঠোকাঠুকির শব্দে থমকে যান শ্রমিকরা। এরপর কৌতূহলবশত মাটি সরাতেই বেরিয়ে আসে মরচে ধরা দুটি ভারী লোহার বাক্স। বাক্স দুটি খুলতেই দেখা মিলেছে পাখা বা চরকিসদৃশ ১২টি গোল্লাকৃতির বস্তু, যা দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন পরিত্যক্ত কোনো রকেট লঞ্চার কিংবা মর্টার শেল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া থলচালা গ্রামের ‘টুঙ্গীর চালা’ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক লিয়াকত আলীর মালিকানাধীন জমিতে মাটি কাটার কাজ করছিলেন বর্গাচাষি আছরব আলী ও তাঁর ছেলে শাকিল। খননকাজের একপর্যায়ে কোদালে শক্ত কোনো ধাতব বস্তুর আঘাত লাগে। পরে মাটি সরিয়ে তারা দুটি রহস্যজনক লোহার বাক্স দেখতে পান।

বাক্স দুটির একটির গায়ে পিতলের প্লেটে স্পষ্টভাবে খোদাই করা রয়েছে—‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ টাঙ্গাইল’ (East Pakistan Police Tangail)। স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাক্স দুটি উদ্ধার করে নিজেদের নিরাপদ হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া বাক্স দুটির প্রতিটিতে ৬টি করে মোট ১২টি গোলাসদৃশ বস্তু রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো মুক্তিযুদ্ধকালীন রকেট লঞ্চার বা কোনো বিস্ফোরক কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, বস্তুগুলো বেশ পুরনো, জং ধরা ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাক্সের গায়ে খোদাই করা লেখা দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো পাকিস্তান আমলের।

তবে এগুলো ঠিক কী ধরনের যুদ্ধাস্ত্র, বিস্ফোরক কিংবা রকেট লঞ্চার কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বা বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

ডিআর