Image description

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানো, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্যের পরিসর আরও বাড়ানোর এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর মাস থেকেই বাজারে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া এবং চা পাতা বিক্রির কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) টিসিবির পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা ও সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কথা জানানো হয়।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এ বিষয়ে বলেন, “সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে আমরা বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করছি। ইতোমধ্যে আমরা সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া এবং চা বিক্রির অনুমোদন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি নভেম্বরেই এগুলো বাজারে আনতে পারব।”

তিনি আরও জানান, এর পাশাপাশি অচিরেই আটা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমান বাজার চাহিদা ও জরিপের ফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন পণ্য টিসিবির ডিলার ও ট্রাকে যুক্ত হবে। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আয় দিয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কমিয়ে টিসিবিকে একটি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ভর্তুকিযুক্ত পণ্যের পাশাপাশি সংস্থাটি ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ বিক্রি শুরু করেছে। প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও এসব পণ্য সংগ্রহমূল্যের চেয়ে সামান্য লাভে বিক্রি করায় টিসিবির নিজস্ব তহবিল আয় হতে শুরু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকেই ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এই সংখ্যাটি ৭০ থেকে ৮০ লাখে এবং আগামী অর্থবছরে তা ১ কোটিতে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। টিসিবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, নতুন বাণিজ্যিক পণ্যগুলো কেনা বা না কেনার স্বাধীনতা সম্পূর্ণ ভোক্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর কারণে প্রচলিত ভর্তুকিযুক্ত পণ্যের মূল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ডিআর