Image description

নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরদিনও ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিকদের টানা অসন্তোষ ও সহিংস পরিস্থিতির মুখে সোমবার (২ নভেম্বর) সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ২১০টির মতো পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সীমান্ত ঘেঁষা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সহিংসতার অভিযোগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাক এলাকার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন উত্তেজিত শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশৃঙ্খলা ও মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুরে ১৫০টি এবং সাভার-আশুলিয়ায় প্রায় ৬০টির মতো কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর ১০ থেকে ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেও ট্রাফিক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আজ সকালেও মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মিরপুর ও কাফরুল এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাক কারখানার মালিকদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শ্রমিক আন্দোলনের নামে সীমান্তের ওপারের ইশারায় একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি এবং বাস্তবতার নিরিখে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারিত হয়। আজ বিকেলেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সতর্ক করে বলেছেন, সরকার ও মালিকপক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসার পরও যদি শ্রমিকেরা কাজে না ফেরেন, তবে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানায় 'কাজ নেই, বেতন নেই' নীতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন মালিকেরা।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, গতকাল রোববারও কাজের পরিবেশ না থাকায় দেশের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কাজ চালানো সম্ভব হয়নি।

ডিআর