Image description

মাগুরায় চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ এবং মাগুরা সদর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত দুই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে শাকের হোসেন হত্যা মামলার ১৩ দিন পর মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে শাকের হত্যা মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে এ মামলায় গ্রেপ্তার হন যুবদল নেতা রনি শিকদার, শামীমা ইয়াসমিন লুবনা, স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার এবং মাগুরা সদর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন।

শুধু শাকের হোসেন হত্যা মামলাই নয়, মাগুরার আলোচিত ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনাতেও নাম এসেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মারুফ হোসেনের।

গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাস থামিয়ে ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদারের কাছে ওই সোনা নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান।

গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি রামনগর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে মজিবর রহমানকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ সময় তাঁর কাছে থাকা সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়। ডাকাতেরা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি সোনা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মারুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির পাঁচটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলায় আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন (৩৯)। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক অভিযোগে মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

দুটি আলোচিত ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কারাদেশকে ঘিরে মাগুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এসএ