পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণস্থল থেকে ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুটিকে চীন দাবি করছে ‘মদের বোতল’ হিসেবে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ভাষ্য এটি একটি ‘অবিস্ফোরিত সামরিক কামানের গোলা’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণাধীন এলাকা থেকে ৩২ কেজি ওজনের ওই রহস্যজনক বস্তু উদ্ধার করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চার চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় বস্তুটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত কামানের গোলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশ।
ঘটনার পর পোর্ট মোরসবির চীনা দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে যে, উদ্ধারকৃত বস্তুটি কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক নয়, বরং এটি ‘গোলার আকৃতির একটি মদের বোতল’, যা জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না। চীনে বিশ্বের অন্যতম কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে উল্লেখ করে দূতাবাস আরও জানায়, দেশটি থেকে অবৈধভাবে সামরিক কামানের গোলা পাচার হওয়া প্রায় অসম্ভব।
চীনের এই দাবির বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার সরবরাহ করা এক্স-রে যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বস্তুটি চীনে তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ-৫৯’ কামানের একটি অবিস্ফোরিত গোলা। এর ভেতরে রাসায়নিক বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর ফিউজ বা ডেটোনেটর রয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পোর্ট মোরসবির মার্কিন দূতাবাস জানায়, পাপুয়া নিউগিনির বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। উন্মুক্ত পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন পরিষ্কার—এটি কোনো মদের বোতল নয়, বরং একটি অবিস্ফোরিত সামরিক গোলা।
ঘটনাটিকে জননিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ উল্লেখ করে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে পাপুয়া নিউগিনির সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা দূতাবাস।
এদিকে ৩২ কেজি ওজনের বস্তুকে ‘মদের বোতল’ হিসেবে চীনের এমন দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিদ্রূপ। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, ‘কোন মদের বোতলের ওজন ৩২ কেজি হতে পারে?’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘এত বিস্ফোরক ক্ষমতাসম্পন্ন মদের বোতল আগে কখনো দেখিনি।’ খোদ চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানামুখী কৌতুক ও সমালোচনা চলছে।
ডিআর




Comments