যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। তাঁর এই জয় প্রমাণ করেছে, মুসলিম পরিচয় কিংবা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান আড়াল না করেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সফল হওয়া সম্ভব।
আলজাজিরায় প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে লেখক বিলাল ইরফান এসব কথা লিখেছেন। ৬ নভেম্বর প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেন, মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে এল-সায়েদের জয় কেবল একজন প্রার্থীর বিজয় নয়; বরং এটি নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা।
পেশায় চিকিৎসক এবং ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সায়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। নির্বাচনের ফলাফলে ওয়েইন কাউন্টির ভোট তাঁর জয় নিশ্চিত করে। লেখক জানান, ২০১৮ সালের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় মসজিদে জুমার খুতবা, বিভিন্ন সময় থেকেই মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পরিচিত ছিলেন এল-সায়েদ।
নির্বাচনি প্রচারে তিনি মুসলিম পরিচয় আড়াল করেননি। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করার পাশাপাশি মিশিগানের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও কথা বলেছেন। লেখকের মতে, তাঁর প্রচারের একটি বড় দিক ছিল মুসলিম পরিচয় কিংবা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান থেকে সরে না এসেও সব শ্রেণির মানুষের জন্য রাজনীতি করা।
নির্বাচনি প্রচারের সময় তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। লেখাটিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার তাঁর নাম নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। এমনকি তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সন্দেহের কারণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এল-সায়েদ এসব সমালোচনার জবাবে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও নীতিগত বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।
বিজয়ী ভাষণে তিনি নিজের পুরো নাম আবদুর রহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ’ উচ্চারণ করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আগে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন উল্লেখ করে বিজয়ের পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। লেখকের মতে, তাঁর মুসলিম পরিচয়কে রাজনৈতিক অযোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টার মধ্যেও পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে জয় পাওয়ার ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী লবিগোষ্ঠী আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপ্যাক) সংশ্লিষ্ট একটি সুপার প্যাক মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদকে পরাজিত করতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে জয়ী হন। তাঁর বিজয় ভাষণে এআইপ্যাককে দুবার পরাজিত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানোর কথাও উল্লেখ করেছেন লেখক।
লেখক বিলাল ইরফান মনে করেন, এল-সায়েদের জয় শুধু মুসলিম প্রতিনিধিত্বের অর্জন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের পরিচয় ও অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেছেন, একজন সিনেটরের বিজয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলে যাবে না কিংবা ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে না। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি নীতিগত পরিবর্তনের জন্যও কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
নিবন্ধের শেষাংশে লেখক বলেন, মুসলিম আমেরিকানদের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অংশ নিতে হলে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আড়াল করতে হবে এমন ধারণাকে এল-সায়েদের বিজয় চ্যালেঞ্জ করেছে। নিজের পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখেই তিনি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।
এনএ




Comments