ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের স্মৃতিবিজড়িত ক্লাবে পা রেখেই নিজের আগমনী বার্তা দিলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার সামিত সোম। ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে নিউইয়র্ক কসমসের ৪-২ গোলের জয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে নজর কাড়লেন ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ম্যাচে দুটি গোল করানোর পাশাপাশি আক্রমণ ও রক্ষণ দুই প্রান্তেই ছিলেন সমান সক্রিয়।
পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকা সামিত শুরু থেকেই কসমসের খেলার ছন্দ ঠিক করে দেন। কখনো আক্রমণভাগে বল জোগান দিয়েছেন, আবার প্রতিপক্ষ আক্রমণে উঠলেই নেমে এসেছেন রক্ষণে। তার বক্স-টু-বক্স দৌড় আর নিখুঁত পাসে বারবার চাপে পড়েছে ফোর্ট ওয়েনের রক্ষণ।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আসে সামিতের প্রথম বড় অবদান। ৪৪ মিনিটে তার বাড়ানো চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন লামিন জাওনে। এরপর যোগ করা সময়ে সেরহিও চাভেজের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কসমস।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নিউইয়র্কের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেবাস্তিয়ান গুয়েনজাত্তির গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। ৬৬ মিনিটে রায়ান বেচার ফোর্ট ওয়েনের হয়ে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেন।
কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পরই আবারও আলো ছড়ান সামিত। জাওনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি করে তার পা থেকে বের করে আনেন দলের চতুর্থ গোল। একই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের দ্বিতীয় সহায়তাও।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও বলছে, মাঠজুড়ে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। ৪৭ বার বলের সংস্পর্শে এসে ৩৮টি পাসের মধ্যে ৩১টিই সফল করেন তিনি। প্রতিপক্ষের শেষভাগে সাতটি পাস দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি লম্বা পাসের চারটিই ছিল সফল। তৈরি করেছেন দুটি বড় গোলের সুযোগও।
রক্ষণেও কম যাননি সামিত। জিতেছেন তিনটি ট্যাকল, পাশাপাশি করেছেন দুটি বল পুনরুদ্ধার। দুই গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও মিলেছে ম্যাচের পর। জনপ্রিয় ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক অ্যাপ ফটমব তাকে দিয়েছে ৮ দশমিক ৬ রেটিং।
এমআর




Comments