Image description

বগুড়ার শিবগঞ্জে তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমিতে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার কিচক ইউনিয়নের আপসন ও সাদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল "জীবন দিব, তবু তিন ফসলি জমি দিব না।" এ স্লোগানের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমি রক্ষায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান স্থানীয় বসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, "প্রস্তাবিত খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি উর্বর ও তিন ফসলি কৃষিজমি। এসব জমিতে বছরে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। কৃষিজমি নষ্ট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে।"
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, "আমরা খাদ্যগুদাম নির্মাণের বিরোধিতা করছিনা। তবে তিন ফসলি কৃষিজমি নষ্ট করে এটি নির্মাণ হোক, সেটা চাই না। কৃষিজমি বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হলে আমাদের আপত্তি নেই।"
তারা আরও বলেন, "কৃষিজমি কমে গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য খাদ্য উৎপাদনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রস্তাবিত স্থান পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফারুক হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, "সাদুরিয়া এলাকায় খাদ্যগুদাম নির্মাণের বিষয়টি এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।" মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, "তারা মানববন্ধন করতেই পারে। রাষ্ট্রের সব সম্পত্তির মালিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সম্পত্তি নিতে পারে। সেখানে আমার-আপনার কি করার আছে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান মানবকণ্ঠকে বলেন, "এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি। কোথায় খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে সে বিষয়েও আমি জানিনা। যদি জায়গাটা দেখতাম তাহলে বলতে পারতাম যে জায়গাটা তিন ফসলি জমি কি না।"#
এসএ