ময়মনসিংহের নান্দাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নামে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদ্যালয়প্রতি ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে। কয়েকজন প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, মনোনয়ন ফরম ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে এ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
মহাবৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাইয়ুম অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে কমিটি গঠনের সময় এভাবে কোনো টাকা দিতে হয়নি। এবার তাঁর কাছ থেকে ফরম বাবদ ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি এবং কবে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়েও তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর জান ফেরদৌসী বলেন, পূর্বের কমিটি গঠনের সময় এ ধরনের কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এবার ২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কী কারণে বা কোন খাতে এ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
শুভখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা জাহানও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকেও ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, কমিটি গঠনের জন্য এভাবে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম বা পূর্বের নজির তাঁদের জানা নেই। কীভাবে এবং কী কারণে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) সালমা খাতুন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কোনো স্কুল থেকে কোনো টাকা নিইনি।”
তাঁর ক্লাস্টারের কয়েকজন শিক্ষক মনোনয়ন ফরম বাবদ ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন—এ বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিতে আনা হলেও তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এসএ




Comments