এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার শেফালি বর্মা। তাঁর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৯৫ রানের বিশাল পুঁজি পায় ভারত। ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে শেফালির ব্যক্তিগত রানের সংগ্রহকেও স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অলআউট হয়ে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের ফাইনাল থেকে ছিটকে গেছে টাইগ্রেসরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই মারমুখী ভঙ্গিতে খেলে পাওয়ার প্লেতেই ৭২ রান তুলে ফেলে ভারতীয় দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেলের শেষ বলে ভারত অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানাকে ৩৭ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার।
এরপর তিন নম্বরে নামা গুনালান কামালিনিকে (২) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সানজিদা আক্তার মেঘলা। দলীয় ৮৫ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে ভারতের। তবে এরপর শুরু হয় শেফালি বর্মার একচ্ছত্র আধিপত্য। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরের সঙ্গে মিলে তৃতীয় উইকেটে ৯৪ রানের দ্রুতগতির জুটি গড়েন তিনি।
দলীয় ১৭৯ রানে হারমানপ্রীত ৪০ রান করে রাবেয়া খানের শিকার হন। পরের ওভারে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষকে (২) ফেরান মারুফা আক্তার। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় তুলে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শেফালি। শেষ পর্যন্ত তিনি ৪টি চার ও ৯টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
১৯৬ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে টাইগ্রেসরা। দিলারা আক্তার ছাড়া দলের প্রথম চার ব্যাটারের সবাই এক অঙ্কের ঘরেই সাজঘরে ফেরেন।
মিডল অর্ডারে ষষ্ঠ ব্যাটার শারমিন আক্তার ১০ রান এবং ওপেনার দিলারা আক্তার সর্বোচ্চ ২৭ রান করে আউট হন। শেষ দিকে অষ্টম ব্যাটার সুলতানা খাতুন ১২ রানে অপরাজিত থাকলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ১৫ ওভার ৪ বল খেলে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ডিআর




Comments