Image description

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে রাশিয়ায় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। তবে এ তথ্যের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

এদিকে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, বিমান প্রতিরক্ষা এমন একটি ক্ষেত্রে, যেখানে ইউক্রেনের ঘাটতি রয়েছে এবং এ বিষয়ে সিউলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ড্রোন চুক্তিসহ অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা নিয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইউক্রেনীয় কূটনীতিকরা সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান জেলেনস্কি।

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা

২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ওই বছরের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় দুই দেশ সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো পক্ষ বহিরাগত আগ্রাসনের শিকার হলে অপর পক্ষকে সহায়তার বিধান রয়েছে।

ইউক্রেনীয় ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে কয়েক মিলিয়ন আর্টিলারি ও মর্টার গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান ও রকেট ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে।

এর আগে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছিল, একটি উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় মোতায়েন শুরু করেছে। ওই ইউনিটে ইউক্রেনে হামলার জন্য সর্বোচ্চ ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তবে রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কির ৩০ থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েনের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এসএস