ডাক বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঢাবির সাবেক শিক্ষকের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাক বিভাগে কর্মরত শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা ও তার পরিবারের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। জমি কিনে দেওয়া ও যৌথ ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
অভিযোগ সূত্রের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা ও তার সহধর্মিনীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নেন শামীমা আক্তার। শুরুতে বিশ্বস্ততা অর্জনে তিনি শিক্ষক দম্পতির বাসায় ফলমূল ও খাবার উপহার নিয়ে যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে জমি ক্রয় ও যৌথ ব্যবসার কথা বলে ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেন। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে দরিদ্রদের দেওয়ার কথা বলে তিনি এই শিক্ষকের কাছ থেকে জাকাত বাবদ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করলেও তা নিজে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে লিখিত কোনো প্রমাণ না থাকলেও পরবর্তীতে শামীমা আক্তারের স্বাক্ষরযুক্ত ২০ লাখ টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণপত্র ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে একটি জমি ক্রয়ের কথা বলে আরও ২০ লাখ টাকা নেন শামীমা। পরবর্তীতে যে জমির একটি দলিল তিনি হস্তান্তর করেন, অনুসন্ধানে দেখা যায় সেটির নামজারি করা হয়নি এবং প্রকৃত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে তা কেনানো হয়েছে। পাশাপাশি জমিটির এসএ, সিএস ও খতিয়ান নম্বরে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বর্তমানে ওই জমি ১৫ লাখ টাকায় নিজের নামে ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন অভিযুক্ত শামীমা।
সম্প্রতি ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের একমাত্র ছেলে ফয়সাল মাহমুদ বাবার পাওনা টাকা ও জমির মূল দলিল ফেরত চান। এতেই বিপত্তি ঘটে। শামীমা আক্তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ফয়সাল মাহমুদ অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শামীমা তাদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করছেন এবং ক্যাডার ও সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট দেশের একটি দৈনিকে এ বিষয়ে শামীমা আক্তারের সাক্ষাৎকার গৃহীত হলে তিনি অর্থ লেনদেন ও সব ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেন।




Comments