Image description

আজ ৩১ জুলাই, ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের ৯ বছর পূর্ণ করে ১০ বছরে পদার্পণের দিন। ২০১৫ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের হাজার হাজার মানুষ। ওইদিন মধ্যরাতে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের মূল ভূখণ্ডে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত হয়।

নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়াসহ অন্যান্য সাবেক ছিটমহলগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির এবং কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে এতসব প্রাপ্তির মাঝেও দাসিয়ারছড়াবাসীর একটি বড় অতৃপ্তি রয়ে গেছে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি— দাসিয়ারছড়াকে একটি পৃথক ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বতন্ত্র ইউনিয়ন না থাকায় সরকারি সেবা গ্রহণ, স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে তাদের নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা মনির, শরিফুল ইসলাম, রিমা খাতুন ও আকবর আলী বলেন, "ছিটমহল বিনিময়ের পর আমরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছি, অনেক উন্নয়নও হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রাণের দাবি দাসিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন ঘোষণা করা হোক। এটি বাস্তবায়িত হলে আমরা সরকারি সেবা আরও সহজে দোরগোড়ায় পাব। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে এই অসমাপ্ত কাজটুকু দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।"

সাবেক ছিটমহল আন্দোলনের নেতা আলতাফ হোসেন জানান, "দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনা শেষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের প্রধান চাওয়া ছিল একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন। আগের সরকার সেই দাবি পূরণ করেনি। এছাড়া দাসিয়ারছড়ায় একটি আইসিটি সেন্টার থাকলেও সেটির কোনো কার্যক্রম নেই। আমরা বর্তমান নতুন সরকারের কাছে দাসিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন ঘোষণা এবং এখানকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বর্তমানে ডি-সেট সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আর ইউনিয়নের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনতে পারছি। স্থানীয়রা লিখিত আবেদন করলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।"

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জানান, "সাবেক ছিটমহলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলা হয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং তারা সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।"

এক দশক আগে নাগরিকত্বের স্বপ্ন পূরণ হলেও প্রশাসনিক স্বীকৃতির (ইউনিয়ন ঘোষণা) জন্য এখনো অপেক্ষায় দিন গুনছেন দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দারা। বর্তমান নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো এলাকার মানুষ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর