খানাখন্দে ভরা সড়কে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। অল্প বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের তালতলা থেকে আমবাগ পর্যন্ত সড়কটি এখন হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। কোথাও আবার পানির নিচে লুকিয়ে থাকে গভীর গর্ত। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনকে।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটির বুকজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় এসব গর্তের অস্তিত্ব বোঝার উপায় থাকে না। এতে যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। কখনো আহত হচ্ছেন যাত্রীরা, আবার কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। অথচ জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়েই চলাচল করেন।
শুধু সোনারগাঁওয়ের মানুষই নন, আড়াইহাজার উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরও যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, পোশাক কারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলে তারা আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া ফেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। অনেক জায়গায় ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের নতুন নির্মিত অংশে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, সড়কের ঢাল ও উচ্চতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই কাজ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনার ঘাটতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির দুর্বলতার কারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ফলে নতুন নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কোনাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘তালতলা থেকে আমবাগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধেক করে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সড়কের অনেক জায়গা খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে ছোট ছোট শিশু ও পথচারীদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিক।’
শিরাব আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক প্রকাশ পাল বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। অল্প বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না। অনেক সময় ছোট শিশুরা পানিতে পড়ে যায়। আবার খানাখন্দে পড়ে অনেক গাড়ি উল্টে গিয়ে মানুষ আহত হন।’
অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত তাদের গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি মেরামতের জন্য গ্যারেজে নিতে হয়। যা আয় হয়, তার বড় একটি অংশই চলে যায় মেরামত খরচে। অন্যদিকে, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া চাইলে তাদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।
এ বিষয়ে জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জানকে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সোনারগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসেন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তাই সবকিছু এখনো বিস্তারিত জানি না। তবে সংসদ সদস্যের কাছে ১০টি রাস্তার কাজের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেখান থেকে অতি শিগগিরই আটটি রাস্তার কাজ করা হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি রাস্তার কাজও করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তালতলা সড়কের কয়েকটি ছবি আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।’
এসএ




Comments