রাঙ্গাবালীতে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। কেউ উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশের অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ প্রকাশিত নিয়োগ তালিকা বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।
গত তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব পোস্টে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং স্থানীয় নেতাদের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আজিজ মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই! দুঃখ হয় শুধু চূড়ান্ত ফলাফল পদ্ধতি নিয়ে। এটাই কি নতুন বাংলাদেশের পদচারণা? এসব কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল?’
এ ছাড়া নিয়োগের তালিকায় থাকা কয়েকজনকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
‘রাসেল হাওলাদার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘দলীয়ভাবে যখন লোক নেবেন, তাহলে পরীক্ষা কেন নিলেন? দলীয়ভাবে যখন লোক নেবেন, তাহলে আওয়ামী লীগের লোক কেন নিলেন? দলের জন্য যাদের এত ত্যাগ, তাদের জন্য কী করলেন?’
অন্যদিকে, উপজেলার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কোনো কর্মীকে নিয়োগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যেভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাতে প্রার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না। তাঁদের দাবি, লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে শুধু মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হয়েছে। সেখানেও নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।
এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘এভাবে কি মেধা যাচাই করা সম্ভব? যদি এভাবেই নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম থাকে, তাহলে সার্কুলার দিয়ে আমাদের আবেদন করানো হলো কেন? আমরা তো পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য তো আমাদের সিভিতেই দেওয়া ছিল।’
অন্য এক পরীক্ষার্থী বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধা যাচাইয়ের স্বচ্ছ ও কার্যকর কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা না নেওয়া এবং মৌখিক পরীক্ষায় পর্যাপ্ত প্রশ্ন না থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম সাইউম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা সব অভিযোগ আমি নিজেও দেখেছি। শুধু রাঙ্গাবালী নয়, সারা বাংলাদেশেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে অন্যান্য এলাকার তুলনায় রাঙ্গাবালীতে অভিযোগের সংখ্যা কম।’
স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বজনপ্রীতি ও সুপারিশ সব সময়ই সব জায়গায় থাকে। যাদের বিষয়ে সুপারিশ এসেছে, তাদের মধ্যে যারা যোগ্য ছিলেন, তাদেরকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন প্রার্থীর চেহারা দেখে তো বোঝা যায় না তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না। আমরা ভাইভা নিয়ে প্রার্থীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নম্বর দিয়েছি। যোগ্যতার ভিত্তিতে কেউ সুযোগ পেলে, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না।’
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘ফলাফল দিতে হবে, তাই ফলাফল দিয়েছি। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আমি কোনো জায়গায় হাত দিইনি। আমি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নীতিমালার সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এসএ




Comments