Image description

মোংলা সমুদ্রবন্দরের পশুর নদীতে আবারও কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নদীর হাড়বাড়িয়া ও ইসমাইলের চর এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নদীপথে নৌযান চলাচল এবং সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শফিকুল ইসলাম দৈনিক মানবকণ্ঠকে জানান, ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজ এমডি ফুলবাড়ী মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া ১৪ নম্বর বয়ার কাছে অবস্থানরত মাদার ভেসেল এমভি অবজারভেটরি থেকে প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

পথে ভুল চ্যানেলে প্রবেশ করায় জাহাজটি পশুর নদীর একটি ডুবোচরে আটকে যায়। এতে জাহাজের তলদেশ ফেটে যায়। পরে রাতের জোয়ারের পানিতে জাহাজটি ধীরে ধীরে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা কোস্টগার্ড ও বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় জাহাজে থাকা সাতজন নাবিক ও কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া এক নাবিক জানান, “হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজটি কেঁপে ওঠে। এরপর এটি কাত হতে শুরু করে। আমরা লাফ দিয়ে পানিতে পড়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচি।”

দুর্ঘটনাস্থলটি সুন্দরবন থেকে মাত্র এক থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিবেশদূষণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠিয়েছি। কয়লা পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে কি না এবং জলজ প্রাণীর কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়লা বস্তাবন্দী থাকায় আপাতত তা পানিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। তবে এ বিষয়ে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র জানতে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজটির মালিকপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজ খরচে ডুবে যাওয়া জাহাজটি উত্তোলনের নির্দেশ দিয়ে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা না হলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পশুর চ্যানেলে পলি জমে অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কিছু লাইটার জাহাজের মাস্টার পুরোনো নৌ-চার্ট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে ঝুঁকিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত পথে চলাচল করেন। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

গত তিন বছরে এ নৌপথে কয়লাবোঝাই এমভি আইচগাতি (১,০০০ টন), এমভি জাবালে নূর (১,২৩৫ টন) ও এমভি বিডি-১১৪৮ (৮০০ টন)সহ অন্তত ছয়টি জাহাজ ডুবেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় নৌযান শ্রমিকদের দাবি, পশুর নদীর মূল চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং এবং ডিজিটাল মার্কিংযুক্ত বয়া স্থাপন করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।

এসএ