হত্যা ও অপহরণসহ বিভিন্ন মামলার আসামি 'বদি', এখন পুলিশের জালে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক যুবককে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় বদিউজ্জামান ওরফে বদিকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্গাপুর সদর উপজেলার মেনকী ফান্দা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাত ১০টার দিকে শফিকুল ইসলাম (৩৫) শিবগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক আটক করে মুখে কাপড় চেপে মোটরসাইকেলে তুলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে অপহরণকারীরা শফিকুলকে ধোবাউড়া উপজেলার রনসিংহপুর বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। এদিকে পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট শফিকুলের ভাই ফারুক আহমেদ (৪৮) বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়ালের সৎভাই শামীম আহমেদ ওরফে শুটার শামীম (৩৬), খোকন মিয়া (৩০), সোহেল ওরফে চাকু সোহেল (৩৫), আবু ইমরান (৪০), মামুন মিয়া (৩০), জোনায়েদ মিয়া (৩২), রবিন মিয়া (৩৭) ও সিদ্দিক মিয়াকে (৩০) আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া বদিউজ্জামান এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও শামীম আহমেদের ভাই। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় বদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসএ




Comments