Image description

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের সূচি নির্ধারণ করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এর মধ্যে দিনের বেলাতেই তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের সময় ক্যাম্পাসের নিজস্ব জেনারেটর দিয়েও পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২৩ আগস্ট) বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে ৭টা, সকাল ১০টা থেকে ১১টা, দুপুর ২টা থেকে ৩টা, রাত ১২টা থেকে ১টা এবং রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পাঁচ দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ দিনে ও রাতে মোট পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে বুয়েট ক্যাম্পাসকে।

বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গী আলমের স্বাক্ষরে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন, পরিচালক, বিভাগ ও অফিসপ্রধান, হলের প্রভোস্ট, পরিবেশ কমিটি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের বেলা গ্যাসের চাপ কম থাকায় লোডশেডিং চলাকালে নিজস্ব জেনারেটর চালিয়েও ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার থেকে এ সূচি কার্যকর হওয়ার কথা।

এদিকে লোডশেডিংয়ের এমন সূচিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ফাহাদ হোসাইন বলেন, বুয়েটে পড়াশোনার পুরো সময়ে বিদ্যুৎ নিয়ে এভাবে চিন্তা করতে হবে, তা তিনি আগে কল্পনাও করেননি। অথচ এখন দিনে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের সূচি দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় নিজেদের জেনারেটর দিয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না—বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং হাজার হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো গ্যাস, কয়লা বা জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে এসব সক্ষমতার সুফল কতটা পাওয়া যাবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ফাহাদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কেন্দ্রগুলো কোন জ্বালানিতে চলবে, সেই জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে এবং দেশে গ্যাস অনুসন্ধান কতটা করা হবে—এসব বিষয়ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, জনগণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে বলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সময় কমানো কিংবা শিক্ষার্থীদের লোডশেডিং মেনে নেওয়া বাস্তবতার অংশ হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের জ্বালানি পরিকল্পনার পরও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোববার বিকেলে নোটিশটি জারি করা হয়েছে। লোডশেডিং এড়াতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে। ডিপিডিসি সমস্যার সমাধান করতে পারলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে কতদিন এই লোডশেডিং চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

এসএস