Image description

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্রমিক নেতাকে নির্যাতনের প্রতিবাদে রংপুর-নীলফামারীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে রংপুরের মালিকানাধীন বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এ ঘোষণা দেন।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে এই ধর্মঘট কার্যকর হয়েছে। ফলে রংপুর থেকে নীলফামারী, সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ , জলঢাকা, ডিমলা ও ডোমার রুটে রংপুর বাস মালিক সমিতির সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাগামী কোচ এবং দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা সমিতির বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া বাস শ্রমিক ইউনিয়ন উপ-কমিটির দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে রংপুর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকর্মী শফিকুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করেন। স্থানীয়রা আহত শফিকুলকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে নীলফামারী জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুরের মালিকানাধীন বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সৈয়দপুর ও নীলফামারীসহ আশপাশের রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রংপুর মেডিকেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা বিপাকে পড়েছেন।

সৈয়দপুরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরে ডাক্তার দেখানোর জন্য সিরিয়াল দেওয়া আছে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে দিনাজপুর থেকে আসা বাসের জন্য অপেক্ষা করছি।’ একই কথা জানান সিতারা খাতুন ও রুমা আক্তারসহ অনেক যাত্রী।

বাস শ্রমিক আনারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাসে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু মালিক সমিতি যদি আমাদের ওপর এভাবে নির্যাতন চালায়, তবে আমরা কীভাবে কাজ করব। আমরা শ্রমিক নির্যাতনের বিচার ও নিরাপত্তা চাই।’

নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে রংপুর মালিক সমিতির কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না।’

দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।