সিদ্ধিরগঞ্জে সাতঘোড়া সিমেন্টের ধূলায় ‘ধূসরিত’ জনপদ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া ও আইলপাড়া এলাকা এখন ধূলাবালির নগরীতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ‘সাতঘোড়া সিমেন্ট’ কারখানার নির্গত সিমেন্টের ধূলায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা ও ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ডাস্ট বা সিমেন্টের গুঁড়ো অনবরত বাতাসে মিশে চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রাখছে। স্থানীয় নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘরের আসবাবপত্র, ফ্লোর এমনকি কাপড়চোপড় সবসময় সিমেন্টের আস্তরণে ঢাকা থাকে। রান্নার থালাবাসন থেকে শুরু করে শরীরের চামড়াও এই বিষাক্ত ধূলা থেকে মুক্ত নয়। দূষণের প্রভাবে ঘরের টিনের চাল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর তা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কারখানার মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত ৯৩নং সুমিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই বিষাক্ত ধূলিকণার মধ্যেই ক্লাস করছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এছাড়া গাছের পাতায় ধূলা জমে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হওয়ায় এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং স্থানীয় তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রভাবে মালিকপক্ষ ছিল নির্বিকার। ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নূর আলম সিদ্দিকীর ছেলেদের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা-হামলার শিকার হতে হতো। সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধেও কারখানা কর্তৃপক্ষকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার আলাউল হক জানান, সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, "এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এলাকাবাসীর দাবি, অতিদ্রুত এই দূষণ বন্ধ অথবা কারখানাটি স্থানান্তর করা হোক। অন্যথায় জেলা প্রশাসক ও সিটি প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments