Image description

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট ৯ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘চরম দায়িত্ব অবহেলা’ হিসেবে উল্লেখ করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া ৫০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রসহ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (অধ্যক্ষ) সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রের ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে অদলবদল ঘটে। কেন্দ্রটিতে মাত্র ১১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকলেও ভুলবশত ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি শিক্ষকদের জানালেও তাদের ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওইদিন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল। শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি তদন্ত করে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পায় এবং তাদের অব্যাহতি দেয়।

ঘটনার বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বোর্ড যে ব্যবস্থা নেবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর