নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের হামলায় জামায়াতের দুই নেতাসহ আহত ৩
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় এক সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে আড়াইহাজার পৌরসভার ধানসিঁড়ি কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোকপি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—আড়াইহাজার পৌর জামায়াতের সভাপতি নুরুল আমিন, জামায়াতের রুকন কামরুল হাসান মঞ্জু এবং স্থানীয় সাংবাদিক বশির আহমেদ। গুরুতর আহত সাংবাদিক বশির বর্তমানে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, আড়াইহাজার পৌরসভা যুবদল নেতা আলী আকবরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কামরুল হাসান মঞ্জুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে গেলে তার সন্তানকেও মারধর করা হয়। পরে তারা বাজারে জামায়াত নেতা-কর্মীদের খুঁজে খুঁজে হামলা চালায়। এসময় ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক বশির আহমেদকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন পৌর জামায়াত সভাপতি নুরুল আমিনও।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, “বিএনপি মূলত আমাদের মিছিল ও সমাবেশ বানচাল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। তারা দেশের শান্তি চায় না। আমরা তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দক্ষিণের আমির মাওলানা হাদি উল ইসলাম, সেক্রেটারি তৌফিকুল ইসলাম, উত্তর জামায়াতের আমির মাওলানা মনিরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে সরকারি সফর আলী কলেজ ছাত্রদলের নেতা আরাফাত সানি এবং আড়াইহাজার কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন সক্রিয় ছিলেন।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ মেম্বার মুঠোফোনে জানান, “আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। জামায়াত সবসময় মিথ্যা কথা বলে। তারা শুধু শুধু আমাদের ওপর মিথ্যা গল্প সাজাচ্ছে, তাদের কথা আমার বিশ্বাস হয় না।”
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, “এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments