Image description

ফেনীর পরশুরামে সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা কাদের রাব্বানী মোল্লা নয়নের বিরুদ্ধে তাঁর সৎ ভাই এবং খালাতো ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব অলকা গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আলমগীর নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে যুবলীগ নেতা নয়ন তাঁর সৎ ভাই শাহিন মজুমদার স্বপনের ওপর কোনো কারণ ছাড়াই অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় স্বপনের খালাতো ভাই আলমগীর তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে নয়ন ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় আলমগীরের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নয়ন নিজের বড় বোনের সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি তাঁর মরহুম ভাইয়ের সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে সৎ ভাইদের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই জের ধরে তিনি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাদের রাব্বানী মোল্লা নয়ন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি দখল এবং নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেলেও নয়ন এলাকায় অবস্থান করে পূর্বের মতোই জোর-জুলুম ও অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীম বলেন, “নয়ন যুবলীগের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর অত্যাচারে উপজেলার মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই সন্ত্রাসীর দৌরাত্ম্য কমেনি। সে আগের মতোই এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।”

ভুক্তভোগী সৎ ভাই শাহিন মজুমদার জানান, এ হামলার ঘটনায় তিনি পরশুরাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অবিলম্বে নয়নকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল জানান, যুবলীগ নেতা নয়নের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। যেকোনো মূল্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর