Image description

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক তেলিরচালা এলাকায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। এদিকে ঘটনাটি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু মাতব্বরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ (৩৩) জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভিটাকান্দি গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। সে মৌচাক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাসেল মৌচাক এলাকার রেজাউল করিমের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। একই বাড়িতে ওই কিশোরী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরীটি আলাদা একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এই সুযোগে রাসেল কৌশলে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিশোরীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাসেলকে ধরে গণধোলাই দেয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কৌশলে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযুক্ত রাসেলকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অপরাধে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে আপস করার চেষ্টা অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, “কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর