লোডশেডিংয়ে নাকাল
কম বিদ্যুৎ পেয়েও ‘ভূতুড়ে’ বিলের অভিযোগ শিবচরবাসীর
মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ কম পেলেও এ মাসে বিল এসেছে অনেক বেশি। লোডশেডিং আর অতিরিক্ত বিলের দ্বিমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার (২ আগস্ট) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। কোথাও কোথাও আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। স্থবির হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম।
উপজেলার বহেরাতলা এলাকার বাসিন্দা সেকান্দার মাদবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে গড়ে মাত্র ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এই অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” একই অভিযোগ পৌর এলাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমানের। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট শিশুদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে।
এদিকে, লোডশেডিংয়ের চেয়েও গ্রাহকদের বেশি ভাবিয়ে তুলেছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় পানির মোটর ও ফ্যান-লাইট কম চললেও গত মাসের তুলনায় এবার বিল অনেক বেশি এসেছে। শিবচরের এক গ্রাহক ফেসবুকে লিখেছেন, “বিদ্যুৎ ঠিকমতো পাই না, অথচ বিল এসেছে গত মাসের চেয়ে প্রায় ১০০০ টাকা বেশি। এটা কি করে সম্ভব?”
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পানি সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গৃহিণীরা। নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, এটি কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়, বর্তমানে সারা দেশেই বিদ্যুৎ ঘাটতি চলছে। তিনি বলেন, “জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় চাহিদা বাড়লেও জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যায় না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উত্তরণ কঠিন।”
তবে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিবচরবাসী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments